নতুন সরকারের আমলে ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে—উঠতি বয়সী কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ লেখাপড়ার প্রতি অমনোযোগী হয়ে কিশোর গ্যাং, মাদকাসক্তি, ইভটিজিং, চুরি, জুয়া ও নানা ধরনের সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এই প্রবণতা শুধু ব্যক্তি বা পরিবার নয়, বরং পুরো সমাজ ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অভিভাবকের অসচেতনতা, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা, মাদক সহজলভ্যতা, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং পর্যাপ্ত নজরদারির ঘাটতি সব মিলিয়েই এই সমস্যার বিস্তার ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সময়মতো সংশোধনের সুযোগ না পাওয়ায় কিশোররা অপরাধের জগতে স্থায়ীভাবে জড়িয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথমেই প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি জোরদার করা। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুরুব্বি, শিক্ষক, ইমাম, সমাজকর্মী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। পাড়া-মহল্লাভিত্তিক সচেতনতা সভা, কিশোর কাউন্সেলিং, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানো গেলে কিশোরদের ইতিবাচক পথে ফেরানো সম্ভব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সমাজ গঠন করা সম্ভব। আজকের কিশোররাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ—তাই তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।
মোঃ আনোয়ার হোসেন
গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী।
ছবির ক্যাপশন:
JomunaTV



















